Tuesday, 11 March 2014

DEVABHIKSHA



।। দেবভিক্ষা ।। 

(মানবজাতির কাছে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের আবেদন।)

‘‘ওগো ভিক্ষা দাও!--
     ঝাঁঝাল ঝঞ্ঝার পিশাচী জৃম্ভন শুরু হয়েছে,
বাতুল ঘুর্ণি বেভুল স্বার্থে
     কলঙ্ক কুটিল ব্যবচ্ছেদ
         সৃষ্টি করতে আরম্ভ করে দিয়েছে,
প্রেত-কবন্ধ-কলুষ
     কৃষ্টিকে বেতাল আক্রমণে বিক্ষুব্ধ করে তুলেছে,
অবদলিত কৃষ্টি অজচ্ছল অশ্রুপাতে
     ভিক্ষুকের মতো তাঁরই সন্তানের দ্বারে
         নিরর্থক রোদনে রুদ্যমান,
অলক্ষ্মী-অবশ প্রবৃত্তি-শাসিত বেদস্মৃতি--
     ঐ দেখ--মর্মান্তিকভাবে নিষ্পেষিত,
ত্রস্ত দোধুক্ষিত দেবতা আজ নতজানু--তোমাদেরই দ্বারে
     তোমাদেরই প্রাণের জন্য তোমাদেরই প্রাণভিক্ষায়
     তোমাদেরই সত্তার সম্বর্দ্ধনার জন্য
         ব্যাকুল হয়ে ইতস্ততঃ ঘুরে বেড়াচ্ছেন ;
কে আছ এমন দরদী আর্য্য-আত্মজ সন্তান!--
     তাঁকে মানুষ ভিক্ষা দেবে, তাঁকে অর্থ ভিক্ষা দেবে—
সব হৃদয়ের সবটুকু উত্সর্গ করে
     তোমাদেরই জন্য
সেই দেবোজ্জল প্রচেষ্টাকে সার্থক করে তুলতে ?
যদি থাক কেউ
     ওগো ধী-ধুরন্ধর উত্সর্গপ্রাণ
         নিরাশী নির্ম্মম!
এস,--উত্সর্গ কর--আত্মাহুতি দাও--  
     জীবন নিঙড়ানো যা-কিছু সঙ্গতি
         তাঁকে দিয়ে সার্থক হয়ে ওঠ,
     নিজেকে বাঁচাও, মানুষকে বাঁচাও, কৃষ্টিকে বাঁচাও ;
আর, বাঁচাও দুর্দ্দশাদলিত মহা-ঐশ্বর্য্যশালিনী
     আর্য্যস্তন্যদায়িনী, পরম-পবিত্রা
         ভিখারিণী মাতা ভারতবর্ষকে,
ধন্য হও, নন্দিত হও,
     ঈশ্বরের অজচ্ছল আশীর্ব্বাদকে
         মাথা পেতে লও,
শান্ত হও, শান্তি দাও,
     অস্তি ও অভ্যুত্থানকে
         অনন্তের পথে অবাধ করে রাখ ;
                  স্বস্তি! স্বস্তি! স্বস্তি!

No comments:

Post a Comment