।। দেবভিক্ষা ।।
(মানবজাতির কাছে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের আবেদন।)
‘‘ওগো ভিক্ষা দাও!--
ঝাঁঝাল
ঝঞ্ঝার পিশাচী জৃম্ভন শুরু হয়েছে,
বাতুল ঘুর্ণি বেভুল স্বার্থে
কলঙ্ক কুটিল
ব্যবচ্ছেদ
সৃষ্টি
করতে আরম্ভ করে দিয়েছে,
প্রেত-কবন্ধ-কলুষ
কৃষ্টিকে
বেতাল আক্রমণে বিক্ষুব্ধ করে তুলেছে,
অবদলিত কৃষ্টি অজচ্ছল অশ্রুপাতে
ভিক্ষুকের
মতো তাঁরই সন্তানের দ্বারে
নিরর্থক
রোদনে রুদ্যমান,
অলক্ষ্মী-অবশ প্রবৃত্তি-শাসিত বেদস্মৃতি--
ঐ
দেখ--মর্মান্তিকভাবে নিষ্পেষিত,
ত্রস্ত দোধুক্ষিত দেবতা আজ নতজানু--তোমাদেরই দ্বারে
তোমাদেরই
প্রাণের জন্য তোমাদেরই প্রাণভিক্ষায়
তোমাদেরই
সত্তার সম্বর্দ্ধনার জন্য
ব্যাকুল
হয়ে ইতস্ততঃ ঘুরে বেড়াচ্ছেন ;
কে আছ এমন দরদী আর্য্য-আত্মজ সন্তান!--
তাঁকে মানুষ
ভিক্ষা দেবে, তাঁকে অর্থ ভিক্ষা দেবে—
সব হৃদয়ের সবটুকু উত্সর্গ করে
তোমাদেরই জন্য
সেই দেবোজ্জল প্রচেষ্টাকে সার্থক করে তুলতে ?
যদি থাক কেউ
ওগো
ধী-ধুরন্ধর উত্সর্গপ্রাণ
নিরাশী
নির্ম্মম!
এস,--উত্সর্গ কর--আত্মাহুতি দাও--
জীবন
নিঙড়ানো যা-কিছু সঙ্গতি
তাঁকে
দিয়ে সার্থক হয়ে ওঠ,
নিজেকে
বাঁচাও, মানুষকে বাঁচাও, কৃষ্টিকে বাঁচাও ;
আর, বাঁচাও দুর্দ্দশাদলিত মহা-ঐশ্বর্য্যশালিনী
আর্য্যস্তন্যদায়িনী,
পরম-পবিত্রা
ভিখারিণী
মাতা ভারতবর্ষকে,
ধন্য হও, নন্দিত হও,
ঈশ্বরের
অজচ্ছল আশীর্ব্বাদকে
মাথা
পেতে লও,
শান্ত হও, শান্তি দাও,
অস্তি ও
অভ্যুত্থানকে
অনন্তের
পথে অবাধ করে রাখ ;
স্বস্তি!
স্বস্তি! স্বস্তি!